খরগোশের চিকিৎসা এবং রোগ ও উপসর্গ

খরগোশের চিকিৎসা : খরগোশদের লেজ খাটো, কান লম্বা এবং পিছনের পা লম্বাটে। এরা সামাজিক প্রাণী। শিয়াল, বনবিড়াল, কুকুর, বেজি এদের শত্রু। এখন অনেকে বাড়িতেই খরগোশ পালন করে থাকে। এক বা দুটো খরগোশ পুষতে দেখা যায় অনেককে। সাধারণত স্বল্প ব্যয়, কম স্থানে সহজেই খরগোশ পালন করা যায়। তবে যথাযথ জ্ঞানের অভাবে, অনেকেই সঠিক ভাবে খরগোশ পালন করতে পারে না। শখের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কারণে খরগোশ পালন করলেও সঠিক পদ্ধতি জেনে রাখা উচিত। 

 

Contents

খরগোশের চিকিৎসা

  • মিক্সোমাটোসিস রোগের লক্ষণ অনুযায়ী চিকিত্সা করতে হয়৷ সেফালেক্সিন বা এনরোফ্লক্সাসিন জলের সাথে মিশিয়ে খরগোশকে খাওয়ানো যেতে পারে৷
  • এনরোফ্লক্সাসিন বা সেফালোক্সিন বা সিপ্রোফ্লক্সাসিন নামক আন্টিবায়োটিক খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যায়৷
  • সালফাকুইনক্সালিন ডেরিভেটিভ এই রোগের খুব ভাল ঔষধ৷ খাদ্যে শতকরা ০.০২৫ ভাগ হিসাবে ও পানীয় জলের শতকরা ০.০৪ ভাগ হিসাবে এই ঔষধ খরগোশটিকে খাওয়ালে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়৷

খরগোশের রোগ ও উপসর্গ

myxomatosis। অধিকাংশ ক্ষেত্রে, অসুস্থ পশুদের হত্যা করা হয়। গঠন ইউনিট যখন এটি বৃহৎ শোথ মধ্যে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা – রোগের বিম্বক ফর্ম বরাদ্দ রয়েছে, এর মধ্যে প্রধান উপসর্গ টিউমার-মটর, এবং edematous হয়। গুটি চেহারাও দ্বারা অনুষঙ্গী চোখ প্রদাহ। এটা একটা অত্যন্ত সংক্রামক সংক্রমণ, বিশেষ করে রক্ত চুষা প্যারাসাইট পার্শ্ববর্তী এলাকায় যদি হয়। অসুস্থ পশুদের জবাই হয় এবং অবিলম্বে চামড়া সঙ্গে একসঙ্গে পুড়িয়ে দিল। এমনকি উদ্ধার, খরগোশ ভাইরাসের বাহক থাকা জনসংখ্যার বাকি হুমকি। খামারে myxomatosis পর মোট নির্বীজন চালায়।

 

প্যাস্টিউরেলোসিসের, এছাড়াও সংক্রামক রাইনাইটিস নামে পরিচিত। রোগের লক্ষণ: তাপমাত্রা পর্যন্ত 41 ডিগ্রী, পুঁজভর্তি অনুনাসিক স্রাব, হাঁচি, তন্দ্রা। কখনও কখনও রোগ ডায়রিয়া দ্বারা সম্ভব না। চিকিত্সা: নাক ড্রিপ furatsilin বা পেনিসিলিন হবে। উপসর্গ 20 দিন পর পশুদের বলি হয়, কারণ তারা ভাইরাস বহন করছে অন্তর্ধান পরে। মাংস খাওয়া যায়। চিকিত্সার 2 সপ্তাহ, খরগোশ ভালো পাবেন না, এটা যেমন uncollectible জবাই। মাংস পশু খাদ্য অন্তত এক ঘন্টার মধ্যে রান্না করা হয়।

 

Stomatitis সংক্রমণ। খরগোশ ঠোঁট, জিহ্বা ও নাক লাল শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি, তারপর সাদা পুষ্প দিয়ে ঢেকে। বর্ধিত মুখলালাস্রাবের। নিচের চোয়াল সেইসবের চুল চামড়ার বাইরে পড়ে। চিকিত্সার তাৎক্ষণিক দীক্ষা কয়েকদিন থেকে অসুস্থতা shortens। শ্লৈষ্মিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় 2% জলীয় কপার সালফেট সমাধান সঙ্গে চিকিত্সা, অথবা বিচূর্ণ poltabletki streptotsida খরগোশ এবং আবৃত মুখের মধ্যে 9-10 ঘণ্টা পর পুনরাবৃত্তি। অগ্রসর পর্যায়ে একযোগে উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করে।

 

খরগোশের কি কি কারণে মারা যায়

সঠিকভাবে পরিচর্যার অভাবে অথবা কোন রোগে আক্রান্ত হলে সঠিক চিকিৎসার অভাবে খরগোশ মারা যেতে পারে। 

খরগোশের মারা যাওয়ার লক্ষণ

১. ফ্যাকাসে চোখ,

২. কান খাড়া থাকে না,

৩. লোম শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়,

৪. খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়,

খরগোশের থেকে কি কি রোগ হয়

খরগোশ থেকে মানুষের তেমন কোন রোগ না হলেও কখনো কখনো খরগোশের লোমের কারণে মানুষের এনার্জি সমস্যা হতে পারে। 

 

খরগোশের উপকারিতা ও অপকারিতা

উপকারিতা

১. খরগোশ দ্রুত বর্ধনশীল প্রাণী। এদের খাদ্য দক্ষতা অপেক্ষাকৃত ভাল।

২. এক মাস পরপর এক সাথে ২-৮ টি বাচ্চা প্রসব করে।

৩. অল্প জায়গায় ও স্বল্প খাদ্যে পারিবারিকভাবে পালন করা যায়। অল্প খরচে অধিক উৎপাদন সম্ভব।

৪. খরগোশের মাংস অধিক পুষ্টি গুণসম্পনড়ব। সব ধর্মের মানুষই এর মাংস খেতে পারে।

৫. মাংস উৎপাদনে পোল্ট্রির পরেই খরগোশের স্থান।

৬. রানড়বা ঘরের উচ্ছিষ্টাংশ, বাড়ীর পাশের ঘাস ও লতা-পাতা খেয়ে এদের পালন করা সম্ভব।

৭. পারিবারিক শ্রমের সফল প্রয়োগ করা সম্ভব।

 

অপকারিতা

তারা অন্যান্য প্রাণীদের সাথে ভালভাবে মিলিত হয় না , তাই আপনার যদি একটি কুকুর থাকে তবে আপনি একটি গুরুতর বিবাদের সম্মুখীন হতে পারেন। “খরগোশদের তাদের দাঁত সুস্থ রাখার জন্য চিবানো দরকার,” লরা বলে৷ তারা প্রায় সব কিছু চিবাবে – ঐ বৈদ্যুতিক তারগুলি দেখুন! তারা কামড় দিতে পারে এবং আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে যখন তারা কোণঠাসা বোধ করে।

 

খরগোশের বৈশিষ্ট্য

খরগোশ পোষার জন্য এর জীবনকাল সম্বন্ধে জানা থাকা উচিত। গড়ে প্রত্যেকটি খরগোশ ১০ বছর বাঁচে। তবে খাওয়া ও অন্যান্য বিষয়ের ভিত্তিতে এটি ভিন্ন হতে পারে।

খরগোশের রয়েছে সুন্দর একজোড়া কান। আর বড় এ কানগুলো তাদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। তারা এ কানের সাহায্যে আশপাশের আগন্তুকদের চিহ্নিত করতে পারে। এ ছাড়াও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার জন্যও কান ব্যবহার করে তারা। আর ঠাণ্ডার সময় তারা কানগুলো ঘাড়ের কাছে নিয়ে শরীর গরম রাখতে চেষ্টা করে।

আপনি হয়তো জানলে অবাক হবেন যে, খরগোশের জন্মের সময় শরীরে কোনো পশম থাকে না। তবে তার কয়েক দিন পরই পশম গজানো শুরু হয়। অন্যদিকে অধিকাংশ খরগোশ শাবকই জন্মের সময় কান ও চোখ বন্ধ থাকে। তবে তারা প্রায় পাঁচ দিন বয়সে শুনতে ও ১০ দিন বয়সে দেখতে শুরু করে।

খরগোশের দৃষ্টিশক্তি প্রখর। আর তাদের পেছন থেকে কেউ কাছাকাছি যাওয়ার আগেই তারা দেখে ফেলে। কারণ তাদের চোখের অবস্থানটাই এমন। তবে তাদের নাকের একেবারে সোজা সামনের অংশটি ব্লাইন্ড স্পট নামে পরিচিত। এ অংশে তারা কিছু দেখতে পায় না।

তাদের দেখলে বোঝা যায় না যে, তারা বেশ ভঙ্গুর। হাত দিয়ে ধরলে কিংবা এদিক-ওদিক নিয়ে গেলে তাদের আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে। তবে খরগোশের পেছনের পায়ে অনেক জোর আছে। এটি দিয়ে তারা এতো জোরে কিক দিতে পারে যে, এতে অনেক সময় নিজেদের দেহের হাড়ই ভেঙে যায়।

অধিকাংশ খরগোশ সারাক্ষণ খেলাধুলায় মেতে থাকে এবং মানুষের সান্নিধ্য পছন্দ করে না। আর অনেক সময় খরগোশ মানুষকে কামড় দেয়। বিশেষ করে কাউকে হুমকিস্বরূপ মনে হলে তারা কামড় দিতে পারে। এ কারণে নতুন খরগোশ কিনে আনলে তাকে ধরার আগে কিছুদিন নিজের মতো করে চরতে দিতে হবে।

খরগোশের প্রিয় খাবার

তৃণভোজী খরগোশ এর প্রধান খাবার ঘাস যা প্রতিদিন এর মোট খাবারের ৭০%-৮০% খাওয়াতে হবে একটি খরগোশ প্রতিদিন মাত্র ১৫০ গ্রাম খাবার খায়। পছন্দের খাদ্য দূর্বাঘাস,কলমি শাক তবে কলমি শাক প্রতিদিন দেওয়া যাবে না । সাপ্তাহে ২ দিন সামান্য পরিমান দেওয়া যেতে পারে । এরা গাজর খুব ভালোবাসে। সবুজ শাক-সবজি, পালং শাক, গাজর, মুলো, শশা, সবুজ ঘাস ইত্যাদি। এ ছাড়াও দিতে হবে চাল, গম, ভুট্টা। 

 

খরগোশ এর দাম

সাদা খরগোশ ৫০ থেকে ৬০ দিনের  গুলো দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা জোরা। সাদা খরগোশ ৭০ দিনের  গুলো তার দাম   ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ৪৫ থেকে ৫৫ দিনের অস্ট্রলিয়ান খরগোশের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অস্ট্রলিয়ান খরগোশের ৭০ থেকে ৮০  দিনের বাচ্চার দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত হয়। 

 

আরো পড়ুনঃ

কবুতরের রোগ এবং উপসর্গ

এনিমেল কেয়ার 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *