ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি এবং কি কাজে ব্যবহার করা হয়

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সঙ্গে আমরা কম বেশি প্রায় প্রত্যেকে জড়িত। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual reality) শব্দের অর্থ হচ্ছে কৃত্রিম বাস্তবতা। অর্থাৎ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সত্যি নয়, কিন্তু সত্যি বলে মনে হয়। আসলে এটি একটি ভার্চুয়াল জগত, যা দেখতে হুবহু বাস্তব জগতের মত। অর্থাৎ এটি হচ্ছে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত বাস্তবসম্মত পরিবেশ, যেখানে ব্যবহারকারী কাল্পনিক জগতকে simulation মাধ্যমে বাস্তবায়নের শ্রবণভুতি এবং দৈহিক মানসিক ভাবাবেগ, উত্তেজনা, অনুভূতি প্রভৃতি অর্জন করতে সাহায্য করে।

Virtual reality ব্যবহারকারীর কাছে এমন ভাবে উপস্থাপন করে, যাতে ব্যবহারকারীকে বাস্তব হতে অনুপ্রাণিত করে এবং ব্যবহার করে খুব সহজে বিশ্বাস করে নিতে পারে, আমি যা দেখছি যা শুনছি সবই বিদ্যমান।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি? (What is Virtual Reality?)

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হল কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি অনুকরণবিদ্যমান simulation পরিবেশ। যা দেখতে হুবহু বাস্তব পরিবেশের মত। VR ব্যবহার করার সময় ব্যবহারকারীর মনে হয় যেন তিনি যা কিছু দেখছেন, শুনছেন, অনুভব করছেন তা সত্যিই উপস্থিত।

Virtual reality দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, এখানে Virtual মানে হলো সামনে এবং reality মানে হল বাস্তবতা। অর্থাৎ সামনের বাস্তবতা অনুভব করা হচ্ছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাস (History of Virtual Reality)

Virtual reality শব্দটি প্রথম ব্যবহার হয় ফরাসি নাট্যকার লেখক অভিনেতা Antonin Artaud লেখা the theatre and it’s double বই এ। 1961 সালে মর্টান এল হ্যালিগ Sensorama তার যন্ত্রটিতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কেমন সেটি দেখানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এই প্রযুক্তির সাথে কম্পিউটারের কোন সম্পর্ক ছিল না।

1980 সালের মাঝামাঝি সময় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয় এবং এরপর থেকে ভার্চুয়ালিটির ব্যবহার বাড়তে থাকে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কিভাবে কাজ করে (How Virtual Reality Works)

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রধান কাজ হল দৃশ্য তৈরি করা, অর্থাৎ ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উদ্দেশ্য হলো বাস্তবের মতো দৃশ্য তৈরি করা এর জন্য মূলত এরেস্ট  বা কখনো কখনো দুটি ডিসপ্লে থাকে। এটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে ত্রিমাত্রিক অনুভূতির সৃষ্টি করা হয়, এটি পড়ে থাকলে বাইরের কোন দৃশ্য দেখা যায় না।

এখানে কম্পিউটার হার্ডওয়ার এবং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে ত্রিমাত্রিক অনুমতির সৃষ্টি করানো হয়, যা ব্যবহারকারীর কাছে বাস্তব মনে হয়।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রকারভেদ (Types of Virtual Reality)

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রধানত ৫ প্রকার।

1.Non-immersive Virtual Reality

2.Fully immersive Virtual Reality

3.Semi-immersive Virtual Reality

4.Augmented Reality

5.Collaborative VR

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার (Use of virtual reality)

ব্যবসা-বাণিজ্য

অনলাইনে কোন প্রোডাক্ট কেনার আগে আমরা সেই প্রোডাক্টটির রিভিউ দেখতে পছন্দ করি, তো এই সিস্টেমটির জন্য অনেক কোম্পানি ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার করে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা তাদের প্রোডাক্ট সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার আগে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে সেগুলো পরীক্ষা করে দেখে, এর ফলে অতিরিক্ত খরচ বা ঝুঁকি কোনোটাই থাকে না।

চিকিৎসা বিজ্ঞান

স্বাস্থ্য সেবায় বা চিকিৎসা বিজ্ঞানের Virtual Reality সব থেকে বেশি ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে অস্ত্র পাচার ও এমআরআই স্ক্যান করার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষা ক্ষেত্রে

শিক্ষাক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এটির সাহায্যে মূলত শিক্ষা গ্রহণ এবং প্রদান করা সহজ হয়।

সামরিক ক্ষেত্রে

সামরিক বাহিনীতে প্রশিক্ষণের জন্য মূলত ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়, যেমন অস্ত্র চালানো, কম সময়ের ট্রেনিং দেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে। এছাড়া এটির সাহায্যে বিমান এবং প্যারাসুট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

পর্যটন ক্ষেত্রে

যেসব জায়গায় সাধারণত মানুষের প্রবেশ নিষেধ বা সেখানে যাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার, সেক্ষেত্রে উচ্চ ক্ষমতার লেন্সসহ ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (Virtual Reality) ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক বস্তুকে ভালোভাবে দেখা যায়।

ড্রাইভিং এর ক্ষেত্রে

বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চালনা এবং প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।

খেলাধুলা ও বিনোদন

বর্তমানে কম্পিউটার ব্যবহার করে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা যায়, এছাড়া বিনোদনের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সুবিধা

১. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি একটি বাস্তববাদী বিশ্ব তৈরি করে।

২. এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাড়িতে বসে অনেক ভাল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা যায়।

৩. ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একটি কৃত্রিম পরিবেশ নিয়ে পরীক্ষা করতে পারে।

৪. ভার্চুয়াল রিয়েলিটির শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব অপরিসীম।

৫. হে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সংযোগ তৈরি করতে পারেন অর্থাৎ যোগাযোগ করতে পারেন।

 

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অসুবিধা (Disadvantages of virtual reality)

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির সুবিধা যেমন আছে তেমনি বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে।

১. ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি খুবই ব্যয়বহুল।

২. এটি অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তি নিয়ে গঠিত।

৩. ভার্চুয়াল রিয়েলিটি পরিবেশে আমরা বাস্তব জগতের মত আমাদের নিজস্বভাবে চলতে পারিনা।

 

 

আরও পড়ুনঃ
কম্পিউটার প্রোগ্রামিং কি 
সাইবার সিকিউরিট কি 
ব্লক চেইন টেকনোলজি 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *