সাইবার সিকিউরিটি কি এবং কেন দরকার ?

সাইবার সিকিউরিটি কিঃ ১৯৭০ সালে ARPANET নামক একটি প্রজেক্টকে কেন্দ্র করে সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছিল। এই ARPANET ছিল আধুনিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের পূর্বের যোগাযোগ মডেল। 

উন্নত প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারে যেমন সাইবার অপরাধের সংখ্যা বেড়েছে, তেমনি তা প্রতিরোধে সমান তালে ভুমিকা রাখছে সাইবার সিকিউরিটি। আজকের লেখায় আমরা জানবো সাইবার সিকিউরিটি কি, এটি কাদের জন্য জরুরি এবং এর কিছু ধরণ নিয়ে। 

সাইবার সিকিউরিটি কি ? What is cyber security?

কোন কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, সার্ভার এবং তথ্যকে সাইবার হামলা, অননুমোদিত প্রবেশ অথবা ব্যবহার থেকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থাই হলো সাইবার সিকিউরিটি। আমরা যেমন সম্পদ রক্ষার্থে নানা ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করি, ঠিক তেমনি সাইবার সিকিউরিটির মাধ্যমে এসব ভার্চুয়াল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। বর্তমানে সাইবার ক্রাইম বেড়ে যাওয়ায় সাইবার সিকিউরিটির গুরুত্ব-ও অনেক।   

সাইবার সিকিউরিটি কাদের জন্য জরুরি? For whom is cyber security important? 

সাইবার অপরাধের ব্যাপক প্রসারের ফলে ব্যক্তিপর্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সকল মহলের জন্যই সাইবার নিরাপত্তা খুবই জরুরি। তবুও যেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ সাইবার নিরাপত্তা প্রয়োজন সেগুলো হলোঃ

আর্থিক প্রতিষ্ঠানঃ যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান সাইবার অপরাধীদের প্রাথমিক লক্ষ্য হয়ে থাকে। সার্ভার হ্যাক করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া সাইবার ক্রাইম জগতে খুবই সাধারণ ঘটনা।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানঃ সাইবার অপরাধীদের জন্য অত্যন্ত লোভনীয় লক্ষ্য হলো কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সিস্টেম হ্যাক করে মূল্যবান ও স্পর্শকাতর  তথ্য হাতিয়ে নেয়া। এজন্যই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাইবার সিকিউরিটি তুলনামূলক অনেক শক্তিশালী হয়। 

স্বাস্থ্য সংস্থাঃ সাধারণ মানুষের বিপুল পরিমান তথ্য এবং কালো বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় স্বাস্থ্য সংস্থা গুলোও বড় ধরণের সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছে। 

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানঃ হ্যাকাররা প্রায়ই নির্মাতাদের  গোপন প্রযুক্তি এবং ব্যবসায়িক তথ্য চুরি করে তা কালো বাজারে বিক্রি করে দেয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান গুলোর সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি অনেক। 

ই-কমার্সঃ  অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের বিভিন্ন আর্থিক তথ্য ই-কমার্সগুলোর সার্ভারে জমা হয়। ফলে ই-কমার্স হয়ে উঠেছে সাইবার অপরাধীদের এক লোভনীয় লক্ষ্য। 

বিভিন্ন ধরণের সাইবার সিকিউরিটি সিস্টেমগুলো কি?What are the different types of cyber security systems?

সাইবার নিরাপত্তার অনেক কৌশল ও প্রকারভেদ আছে। তবে সচরাচর আমরা যেগুলো দেখে থাকি তা হলোঃ

  • নেটওয়ার্ক সিকিউরিটিঃ এক্ষেত্রে সাইবার হামলা শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা হয়। 
  • ক্লাউড সিকিউরিটিঃ ক্লাউড ভিত্তিক সকল এ্যাপ্লিকেশন, অবকাঠামো এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। 
  • এন্ডপয়েন্ট সিকিউরিটিঃ এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভোক্তা পর্যায়ে ব্যবহৃত ডিভাইস যেমন ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপের সাইবার নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।  
  • মোবাইল সিকিউরিটিঃ অননুমোদিত রুটিং এবং সাইবার হামলা থেকে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমকে সুরক্ষিত রাখে। 
  • আইওটি সিকিউরিটিঃ আইওটি নেটওয়ার্কে থাকা ডিভাইস সমূহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা করা হয়। 
  • এ্যাপ্লিকেশন সিকিউরিটিঃ কোনো এ্যাপ্লিকেশনকে লক্ষ্য করে চালানো সাইবার হামলা প্রতিরোধ করা হয়। 
  • জিরোট্রাস্ট সিকিউরিটিঃ প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে একক কোনো রিসোর্সের নিরাপত্তা দেয়া হয়।

 

ইনফরমেশন সিকিউরিটি এবং সাইবার সিকিউরিটি কি একই বিষয়? Is information security and cyber security the same thing?

তথ্য নিরাপত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয় দুটি অনেকটা একই শোনায়। তাই অনেকে ভাবতে পারেন যে দুটি একই জিনিস। বাস্তবিকভাবে অনেকটাই মিল থাকলেও সাইবার সিকিউরিটি এবং ইনফরমেশন সিকিউরিটি দুটি আলাদা বিষয়। 

ইনফরমেশন সিকিউরিটি (Information Security)

ডিজিটাল এবং বাস্তবিক উভয় তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যেসব ব্যবস্থা তা হলো ইনফরমেশন সিকিউরিটি।  

শেষ কথা

ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্য তথা সবকিছুই ধীরে ধীরে ডিজিটালাইজেশনের দিকে যাচ্ছে। এই ধারা আগামীতে আরও বাড়বে যার ফলে ভবিষ্যতে মানব জীবনের অধিকাংশ সময় কাটবে সাইবার স্পেসে। মানুষের এই সাইবার স্পেস নির্ভরতার সুযোগ নিতে সাইবার অপরাধীরাও বসে নেই। তাই, একটি সুস্থ ও নিরাপদ সাইবার স্পেস পেতে সাইবার সিকিউরিটির যথাযথ প্রয়োগই একমাত্র সমাধান। 

 

 

Read more
ব্লক চেইন কি এবং কেন 
ডোমেইন নেম সিস্টেম কি এবং কেন 

সাইবার সিকিউরিটি কি  – সাইবার সিকিউরিটি কি

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *