বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভিটি বাড়ানোর জন্য কি কি করা যেতে পারে

বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভিটি : প্রত্যেক শিশু কৌতূহল ও কল্পনা শক্তি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। আর সৃজনশীলতা হচ্ছে এমন একটি ক্ষমতা, যার মাধ্যমে শিশু কৌতূহল ও কল্পনার শক্তিকে সমন্বিত করে ব্যবহার করে। ফলে সে নতুন নতুন বিষয় সৃষ্টি বা আবিষ্কার করতে পারে। অনেকে মনে করেন, সৃজনশীলতা (ক্রিয়েটিভিটি) শুধু শিল্পীদের প্রয়োজন, অন্যদের নয়। ধারণাটি একেবারেই ভুল। এক কথায় বলা যায়, শিশু যত বেশি সৃজনশীল হবে, তার সফলতার সম্ভাবনাও তত বেশি বাড়বে। চলুন জেনে নিই শিশুর ক্রিয়েটিভিটি বাড়ানোর কতগুলো কৌশল।

বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভিটি বাড়ানোর জন্য কি কি করা যেতে পারে

ফ্রি টাইম থাকতে হবে (Must have free time)

শিশুদের সব সময় পড়ার বা কাজের চাপে রাখবেন না। তাদের জন্য ফ্রি টাইম রাখতে হয়। অনেক বাবা-মা শিশুদের জন্য খেলার টাইম রাখেন এভাবে ‌‘৩টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত ড্রয়িং করবা, ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ক্রিকেট খেলবা,….’ ফলে এটি শিশুর জন্য বাধ্যবাধকতা হয়ে যায়। তার আনন্দ হারিয়ে যায়, আর দশটা কাজের মতো এটিও একটি কাজে পরিণত হয়। তার সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটার সুযোগ কমে যায়। শিশুর একটি সময় থাকতে হবে, যেখানে শিশু নিজের মতো করে খেলতে পারবে, চিন্তা করতে পারবে ও দিবাস্বপ্ন দেখতে পারবে। 

 

নিরাপদ পরিবেশ (Safe Environment)

 শিশু বিভিন্ন জিনিসের অভিজ্ঞতা মুক্তভাবে অর্জন করবে; পৃথিবীকে পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে পর্যবেক্ষণ ও পরখ করে দেখবে। তবে এর জন্য অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। দূরত্ব রেখে লক্ষ রাখতে হবে যেন সে আহত না হয়, প্রয়োজনে স্পষ্ট একটি সীমারেখা তাকে জানিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ সে কতদূর পর্যন্ত পরখ করতে পারবে, তা তাকে বলে দিতে হবে এবং কোনো দ্বিধা থাকলে বাবা-মায়ের পরামর্শ নিতে বলতে হবে।

 

উৎসাহ ও স্বীকৃতি (Encouragement and recognition)

শিশুর সৃজনশীলতাকে উৎসাহ ও স্বীকৃতি দিন।সে কোনো ছবি আঁকলে বা কোনো কিছু তৈরি করলে সেটা ঘরে দৃশ্যমান স্থানে রেখে দিন। ছবি হলে তা ফ্রেমে বাঁধিয়ে দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দিতে পারেন। তার সৃষ্টিকে অন্যদের দেখানোর ব্যবস্থা করুন।

 

খেলনা বা উপকরণ সরবরাহ (Supply of toys or materials)

 শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের জন্য সহায়ক ও নিরাপদ খেলনা, ব্লক, রং বা অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করুন। তবে তার বয়স ও নিরাপত্তার কথা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে। কারণ বিভিন্ন বয়সের শিশুর বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি আগ্রহ থাকে এবং সেটা সৃজনশীলতা ও বুদ্ধিমত্তাকে বাড়িয়ে দেয়।

 

সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা করুন (Help solve the problem) 

যখন শিশু খেলবে বা কোনো সৃজনশীল কাজ করবে, তখন সে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে পারে। তাকে সমস্যাটির সরাসরি সমাধান না দিয়ে তাকেই সমাধান বের করতে বলুন। তাতে সে সমাধান করতে শিখতে পারবে এবং তার সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটবে।

 

আদর্শ (Ideal)

শিশুরা সবকিছু অনুকরণ করতে চায়।তাদের সামনে রোল মডেল বা আদর্শ উপস্থাপন করুন। নিজেরা কোনো সৃজনশীল কাজ করুন অথবা সৃজনশীল কাজ দেখানোর ব্যবস্থা করুন। দৈনন্দিন কাজের মধ্যেও সৃজনশীলতা নিয়ে আসা যায়। যেমন_ খাবার সুন্দর করে সাজানো, ঘর গুছিয়ে রাখা, সুন্দর করে কথা বলা, সবাই মিলে একটি সৃজনশীল অথবা মজার কিছু করা, একসঙ্গে সমস্যার সমাধান করা, শিশুকে মজার কিছু দেখানো ইত্যাদি।

 

সৃজনশীল আলোচনা (Creative discussion)

পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জগতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাণবন্তভাবে সৃজনশীল আলোচনা করুন। শিশুকে নিয়ে পার্কে, সৈকতে বা বাড়ির আশপাশে হাঁটুন; সবকিছু পর্যবেক্ষণ করুন এবং তা নিয়ে শিশুর সঙ্গে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করুন। এগুলো শিশুর সৃজনশীলতাকে বাড়াতে সাহায্য করে।

 

পরিশেষে, শিশুর ক্রিয়েটিভিটি বাড়াতে আপনি শিশুকে যেকোনো সংগীত বা আর্ট ক্লাসে ভর্তি করার পরিবর্তে আপনি আপনার সন্তানের প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়াগুলোকে উৎসাহিত করুন। তাকে স্বাধীনভাবে চলতে দিন এবং কোন কিছুতে তাকে বাধ্য করা হতে বিরত থাকুন। তাদেরকে নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ না রেখে মুক্ত করে দিন জ্ঞানের সমুদ্রে।

বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভিটি বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভিটি  বাচ্চাদের ক্রিয়েটিভিটি 

আরও পড়ুনঃ
বাচ্চাদের মেধাবি কিভাবে বানাবেন 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *